For Appointment
dmeh2009@gmail.com
Deen Mohd. Eye Hospital > News > `ব্ল্যাক ফাঙ্গাস একজন থেকে আরেকজনে ছড়ানোর কথা নয়`

`ব্ল্যাক ফাঙ্গাস একজন থেকে আরেকজনে ছড়ানোর কথা নয়`

  • Posted by: Deen Mohd. Eye Hospital
  • Category: News

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ও আন্তর্জাতিক মানের চক্ষু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মো. দীন মোহাম্মদ নূরুল হক বলেছেন, ব্ল্যাক ফাঙ্গাস একজন থেকে আরেকজনে ছড়ানোর কথা নয়। এটি আসে বাতাস থেকে বা পরিবেশ থেকে। যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, যারা বাহিরের পরিবেশে কাজ করে সেখান থেকে ফাঙ্গাসটা শরীরে ঢুকে যায় এবং যখন শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা ফাঙ্গাসের সাথে লড়াই করার অবস্থায় থাকে না তখন সে আক্রান্ত হচ্ছে।

ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে লক্ষণ, করণীয় এবং ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বাংলা ইনসাইডারের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় এসব কথা বলেছেন অধ্যাপক ডা. মো. দীন মোহাম্মদ নূরুল হক। পাঠকদের জন্য অধ্যাপক ডা. মো. দীন মোহাম্মদ নূরুল হকের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডারের প্রধান বার্তা সম্পাদক মো.মাহমুদুল হাসান

অধ্যাপক ডা. মো. দীন মোহাম্মদ নূরুল হক বলেন, ইদানিং একটি জিনিস দেখা যাচ্ছে যে, বিশেষ করে ভারতে যারা কোভিড আক্রান্ত রোগী, যাদের পোষ্ট কোভিড, যাদের হয়ত ডায়াবেটিস আছে তাদের অন্যান্য রোগের কারণে তাদের শরীরের যে প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক কমে গেছে। কোভিড প্যাডামিকে সাধারণত ডায়াবেটিস রোগী থাকলেও চিকিৎসকরা তাদের সিরিয়াস কোভিড রোগীদেরকে প্রচুর পরিমাণে স্টেরয়েড দিচ্ছে। স্টেরয়েড হলো প্রত্যেক মানুষের যে প্রতিরোধ ক্ষমতা, সেটিকে কমিয়ে দেয়। তখন ইমিউন সিস্টেমটা কম্প্রোমাইজড হয়। যেখানে প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। তখন এই ব্ল্যাক ফাঙ্গাস বা মিউকোরমাইকোসিস আক্রমণ করে।

তিনি বলেন, প্রত্যেক মানুষের শরীরেই ফাঙ্গাস, ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়া রয়েছে। এগুলোর মধ্যেই আমরা বেঁচে যাচ্ছি। কিন্তু আমাদের শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা এই ফাঙ্গাল ইনফেকশন বা ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন সঙ্গে লড়াই করে ইনফেকশন হতে দেয় না। আমরা এগুলো থেকে বাঁচতে পারি আমাদের ইমিউন সিস্টেমের মাধ্যমে। কিন্তু যাদের ইমিউন সিস্টেমটা কম্প্রোমাইজড হয় গেছে তাদের বেলায় বিশেষ করে ডায়াবেটিস আছে। এই ডায়াবেটিস রোগীদের এমনিতেই শরীরের ইমিউন সিস্টেম খারাপ থাকে। বিশেষ করে যাদের আন কনট্রোলড ডায়াবেটিস যাদের থাকে। এই কারণে কোভিডে ডায়াবেটিস রোগীদের বেশি লক্ষণ থাকে। তাদের বেশি সমস্যা হয়। তখন রোগীকে বাঁচানো জন্য স্টেরয়েড দিতেই হয়। স্টেরয়েড সুগার লেভেল অনেক বাড়িয়ে দেয়। তখন তাদের শরীরে আরো বেশি প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। তখন এই ব্ল্যাক ফাঙ্গাস বা মিউকোরমাইকোসিস তাদের শরীরে বাসা বাধে।

তিনি বলেন, এটির ব্ল্যাক ফাঙ্গাস নাম হয়েছে কারণ এটি ব্ল্যাকেনিং অথবা ডিসকালারেশন হয়। নাকের ওপর দিয়ে কালো হয়ে যায়। চোখের দৃষ্টি কমে যায়। চোখের দৃষ্টি করে অন্ধত্বও হতে পারে। চোখে ডাবল ভিশন হয়, বুকে ব্যাথা হয়। শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়। অনেক সময় কাশির সঙ্গে রক্তও যেতে পারে। সিডিসি আমেরিকা বলেছে যে, অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, যে সব রোগী আক্রান্ত হয় তার মধ্যে ৫০ শতাংশ রোগীর ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে মৃত্যু ঘটতে পারে। আবার ভারতের একটি রিপোর্ট দেখেছিলাম যেখানে, ৫ হাজার ব্ল্যাক ফাঙ্গাস রোগী তারা শনাক্ত করেছে এবং তাদের মধ্যে বেশিরভাগই এমনিতেই ভালো হয়ে যাচ্ছিল।

তিনি বলেন, ব্ল্যাক ফাঙ্গাস একজন থেকে আরেক জনে ছড়ানোর কথা নয়। এটি আসে হলো বাতাস থেকে বা পরিবেশ থেকে। যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, যারা বাহিরের পরিবেশে কাজ করে সেখান থেকে ফাঙ্গাসটা শরীরে ঢুকে যায় এবং যখন শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা ফাঙ্গাসের সাথে লড়াই করার অবস্থায় থাকে না তখন সে আক্রান্ত হচ্ছে। আরো একটি বিষয় বলা হচ্ছে, এই যে হাজার হাজার কোভিড রোগী হাসাপাতালে ভর্তি হচ্ছে, এই যে তারা অক্সিজেন সিলিন্ডার ব্যবহার করছে, রোগীর নাকের ভেতরে টিউবগুলো দিচ্ছে, এছাড়াও ভেন্টিলেটরগুলো ব্যবহার করছে, এগুলো এক রোগী থেকে আরেক রোগী ব্যবহার করছে, দেখা যাচ্ছে সেই ভাবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সেগুলো হাইজেনিক করতে পারছে না জীবানুমুক্ত না করেই অন্য রোগীকে দেওয়া হচ্ছে। ফলে ওইখান থেকেও ইনফেকশন হওয়ার একটি বিরাট সম্ভাবনা রয়েছে বলে অনেক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

তিনি বলেন, এই ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের কারণে চোখে অনেক ধরনের সমস্যা হতে পারে। এই ফাঙ্গাস রোগী সব সময় হাসাপাতলে পাওয়া যায়। শুধু এই কোভিড এর সময় না, এছাড়াও আমারা অনেক ফাঙ্গাল রোগী আমরা পাই। বিশেষ করে কৃষিকাজ করতে গিয়ে ধানের পাতার বারি নিয়ে যে সমস্ত রোগীরা আসেন, তাদের মধ্যে বেশিরভাগই ফাঙ্গাস। আমাদের দেশে সাধারণত দুইটি ফাঙ্গাস আমরা সব সময় পেয়ে থাকি। একটি হলো এসপারজিলাস এবং অন্যটি ক্যানডিডা অ্যালবিক্যানস। কিন্তু এখন মিউকোরমাইকোসিস টা কোভিডের বেলায় হচ্ছে এবং দেখা যাচ্ছে যে, চােখের রোগীদের বেলায় এটি চোখে আক্রমণ করছে। এ সময় রোগীর চোখে অনেক ব্যাথা হতে পারে, চোখ ফুলে যেতে পারে, লাল হয়ে যেতে পারে, দৃষ্টি কমে যেতে পারে। লাইটের দিকে তারা তাকাতে পারে না, চোখ দিয়ে পানি পড়তে থাকে। চোখের মধ্যে ময়লা থাকতে পারে। চোখের কর্নিয়ার রংটার সচ্ছতা কমে যেতে পারে। তখন চোখের ভিশন কমে যায়। আর চিকিৎসা যদি ঠিক মত না দেওয়া হয় তাহলে কর্নিয়াতে আলসার হয়ে অন্ধত্ব আসতে পারে।

তিনি বলেন, ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে লক্ষণ যদি থাকে তাহলে সাথে সাথে চিকিৎসকের কাছে চলে আসতে হবে। এটির একটি সমস্যা রয়েছে যে, এটি এন্টি ফাঙ্গাল দিয়ে চিকিৎসা করতে হয়। বাজারে এন্টি ফাঙ্গাল রয়েছে। এন্টি ফাঙ্গাল চোখের ড্রপও পাওয়া যায়। এখানে আমি মনে করি একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ এর সঙ্গে একজন মাইক্রোবায়োলজিষ্ট, একজন ইন্টারনাল মেডিসিন, একজন নিউরোলোজিষ্ট, একজন ইএনপি স্পেশালিষ্ট এবং একজন ডেন্টিস্ট এরা সবাই মিলে এই চিকিৎসাটা করতে হবে। কারণ এটিতে যোকোনো সময় চোয়ালের মধ্যে ইনফেকশন হয়, নাকের ভেতরে হয়, সাইনাসের ভেতরে হয়, চােখের ভেতরে হয়, বুকের ভেতরে হয়। কাজেই এই চিকিৎসায় সবাই লাগবে। একটি চিকিৎসকদের গ্রুপ দিয়ে চিকিৎসা টা করলে একটি ইফেকটিভ চিকিৎসা হবে।

তিনি বলেন, যদি বেশি ইনফেকশন হয় তাহলে তাহলে চোখ উঠিয়ে ফেলতে হয়। প্রত্যেকটা স্ট্রাকচার যদি ইনভল্ভ হয়। এটিকে আমরা বলি প্যান অফথ্যালমাইটিস। এটি ব্যাকটেরিয়া বা ফাঙ্গাস যেটাই হোক প্যান অফথ্যালমাইটিস হলে যদি চোখ না উঠানো হয় তাহলে জীবনটা সংশয়ে পরে যাবে। ফলে তার চোখ উঠিয়ে ফেলতে হবে। যদি চিকিৎসায় রেসপন্ড না করে। আর রোগীর শারিরীক অবস্থা যদি খারাপ হয়। বয়স্ক রোগী, আন কনট্রােল্ড ডায়াবেটিস, ক্যন্সার সারভাইবার বা টিবি হয়ে রোগীর অবস্থা খারাপ, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাই খারাপ তাদের ক্ষেত্রে প্যান অফথ্যালমাইটিস হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।